কে কত বাকি রেখেছে, প্রত্যেক খদ্দেরের আলাদা পাতায়
বাকির হিসাব খাতায়, আপনার মাথায়, আর আরও তিনজনের মাথায়। প্রত্যেক খদ্দেরের জন্য একটা পাতায় তুলে রাখুন।

পাহাড়ি মুদি, দ্বীপের দোকান আর কাপড়ের দোকানে খাতার পাশে যা থাকে
বাকির খাতা
পাহাড়ি শহরের দোকানদার প্রতিবেশীর পাতা খুলে তারিখ ধরে লাইন পড়েন, কোন সপ্তাহে কে কী নিল তা মনে করার চেষ্টা করেন না।
ফোনে বিল
দীপাবলির আগে কাপড়ের কাউন্টারে কাপড় কাটার সঙ্গে সঙ্গেই বিল হয়, আর বিলটা পরিবারের নামে যায়, তাই বাকি দেওয়ার মুহূর্তেই লেখা হয়ে যায়।
UPI পেমেন্ট
দ্বীপের যে খদ্দের ইউপিআই চালাতে পারেন, একটা স্ক্যানেই তাঁর সপ্তাহের বাকি মিটে যায়; যিনি পারেন না, তাঁর আনা নগদ তাঁর পাতার বিপরীতে নেওয়া হয়।
রোজের রিপোর্ট
দীপাবলির আগের দিনগুলো খুলে দেখুন কাউন্টারে কত বিক্রি হল, আর খাতায় এখনও কত বাকি, দুটো পাশাপাশি রেখে।
সরবরাহকারীকে অর্ডার
যে পাইকার সপ্তাহের মধ্যে টাকা চান, তাঁর জন্যও একটা পাতা থাকে খদ্দেরের পাতার পাশেই, তাই আপনার পাওনা আর আপনার দেনা এক জায়গাতেই।


একই খাতার পাতা, তিন রকম কাজে
পাতাই কথা বলে, আপনাকে বলতে হয় না
প্রতিবেশীর পাতা খুলে তাঁকে লাইনগুলো দেখান, প্রতিটার সঙ্গে তারিখ আর বিল। জলের কলের ধারের কথা দুই বাক্যে মিটে যায়, কারণ পাতা বলে কী কেনা হয়েছিল, তিনি ভরসার কি না সে কথা তোলে না। খদ্দেরও থাকে, পাড়ার শান্তিও থাকে।
নগদের দিন, প্রতিটি পরিবারের পাতা খুলে
দ্বীপের দোকানে নগদ আসে নিজের নিজের দিনে, আর তার মাঝখানে কেউ কিছু দেয় না। দ্বীপের গ্রামে ইউপিআই ঠিকমতো চলে না, তাই সেই ফাঁকে আপনার নিজের ফোনের পাতাই একমাত্র খাতা, কে কত দেবে তার। কোনো পরিবার মেটাতে এলে প্রতিটি লাইন তার দিন সহ পড়ার জন্য তৈরি।
দীপাবলির বাকি, প্রথম বিলের তারিখ থেকে
যে পরিবার তিন অক্টোবর কাপড় নিয়েছে, তার বিলে তিন তারিখই লেখা। দীপাবলির পরের সপ্তাহে খাতা উল্টে না গিয়েই দেখতে পাবেন কোন কোন পরিবারের অক্টোবরের বিল এখনও পড়ে আছে আর কারা উৎসবের সপ্তাহেই মিটিয়ে দিয়েছে। মাল তোলার জন্য যে টাকা ঢেলেছিলেন, তার কতটা খদ্দেরের কাছে আটকে, সেটাও জানতে পারেন।

জলের কলের ধারের প্রতিবেশী, নগদের দ্বীপ আর দীপাবলির আগের বাকি
রোজ দেখা হওয়া প্রতিবেশী
উত্তরাখণ্ডের কয়েকটা ছোট পাহাড়ি শহরে বড় রিটেল দোকান কম, তাই পাড়ার দোকানই রাস্তার রোজকার দরকার মেটায়। আপনার খদ্দের মানে সেই উপরতলার মহিলা, কালই জলের কলের ধারে আবার তাঁর সঙ্গে দেখা। কাউন্টারে দাঁড়িয়ে গত মাসের বাকির কথা তোলা কঠিন, তাই খাতা বন্ধই থাকে আর অঙ্ক বাড়তে থাকে।
যে দোকানে নগদই টাকা দেওয়ার রীতি
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের গ্রামের দিকে ইউপিআই এখনও ঠিকমতো চলে না, আর অনেক দোকানে নগদই টাকা দেওয়ার পছন্দের উপায়। সেখানে যে খদ্দেরের হাতে সেদিন টাকা নেই, সে বাকিতে নেয় আর টাকা এলে নগদে মেটায়। মাঝের সপ্তাহগুলোর হিসাব বলতে থাকে শুধু আপনি যা লিখেছেন আর যা মনে আছে।
সেপ্টেম্বরে মাল তোলা, অক্টোবরে বাকি দেওয়া
মধ্যপ্রদেশের ভোপালের ব্যবসায়ীরা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, GST কমার পর দীপাবলির আগে কেনাবেচা বাড়বে ভেবে তাঁরা ২২ সেপ্টেম্বর থেকে মাল তুলতে শুরু করবেন। কাপড়ের বা মনিহারি দোকান আগে মাল তুললে আগে পাইকারকে টাকা দিতে হয়, তারপর চেনা পরিবারগুলো উৎসবের পর পর্যন্ত বাকিতে জিনিস নেয়। আপনার নিজের টাকা তখন একসঙ্গে তাকে আর খাতায় আটকে থাকে।
যে দোকান একই মাসে বাকিতে দেয় আবার বাকিতে নেয়, তার প্রশ্ন
পাইকার সাত দিনের মধ্যে টাকা চান, কিন্তু আমার খদ্দের মেটায় ত্রিশ দিনে। ফাঁকটা দেখব কীভাবে?
জম্মু ও কাশ্মীরের একটা কাশ্মীর রিডার কলামে লেখা, সেখানকার দোকানদারদের পরিবেশকের হিসাব সাত দিনের মধ্যে মেটাতে হয়, আর ঝাড়খণ্ডে সাপ্লায়াররা মুদি দোকানকে সাপ্লায়ার বুঝে মোটামুটি সাত থেকে তিরিশ দিন পর্যন্ত সময় দিতে পারে। খদ্দেরের পাতার প্রতিটি বিলে তারিখ থাকে, তাই কোন কোন পরিবার এক সপ্তাহ পেরিয়েছে আর আপনার কত টাকা তাদের হাতে আটকে আছে, তা দেখে নিতে পারেন।
একজন খদ্দের একটু একটু করে আমার টাকা শোধ করেন। তাঁর পাতা ঠিক রাখব কীভাবে?
প্রতিটি পেমেন্ট যখন আসে তখনই লিখে রাখুন, যত ছোটই হোক। শেষ লাইনটাই তিনি এখনও যা দেবেন, আর প্রতিবার দিলে সেটা ছোট হয়, এভাবেই তিনি আর আপনি দুজনেই দেখেন দেনা কমছে।
দুই জা-ই একই বাড়ির জন্য কেনে। পাতাটা কার নামে হবে?
বাড়ির নামে একটাই পাতা করুন আর সব বিল তাতে রাখুন। পাতা বলে কে আপনার কাছে বাকি, আর বাকি রেখেছে বাড়ি, থলে যিনিই বয়ে নিয়ে যান।
একটা পরিবার বলছে তৃতীয় সপ্তাহের বিলগুলো ভুল। পাতা এটা মেটাবে কীভাবে?
পরিবারকে বলুন সেদিনের যে বিলটা তারা নিজেদের WhatsApp-এ পেয়েছে সেটা খুলতে। তা আপনার ফোনের লাইনের সঙ্গে মিললে লাইনটা ঠিক। না মিললে কথা বলার মতো সেই একটা লাইন আপনি পেয়ে গেলেন।
পাহাড়ের ওপরের বাড়ির মানুষ পড়তে জানেন না। কলতলায় দেখা হলে তিনি নিজের পাতা মেলাবেন কীভাবে?
পাতার লাইনগুলো তাঁকে পড়ে শোনান, প্রতিটার তারিখ আর কী কেনা হয়েছিল সহ। বাড়ির বাচ্চাকে দিয়ে পরে আবার পড়িয়েও নেওয়া যায়।
দেশের দোকানে বাকি, নগদ আর উৎসব
কিরানা ক্লাবের একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে, হরিয়ানা, রাজস্থান, বিহার আর মধ্যপ্রদেশের প্রায় ৭০% কিরানা দোকান খদ্দেরের টাকা নিতে পেটিএম QR কোড ব্যবহার করে। QR-এ টাকা পেলেও দোকান নিয়মিত খদ্দেরকে বাকি দেয়; QR টাকা নেয়, আর যা এখনও মেটেনি তা থাকে খাতায়।
ব্যবসায়ীদের সংগঠন CAIT বলেছে, ২০২৫ সালে ছট পুজোয় বিহারে প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে, যা অন্য যে কোনো রাজ্যের চেয়ে বেশি। এমন উৎসবের মরশুমে কাউন্টারে যা বিক্রি হয়, তার অনেকটাই যায় এমন পরিবারের কাছে যাদের দোকান আগে থেকেই চেনে।
পশ্চিমবঙ্গে, ২০১২ সালে নিলসেন ধরেছিল কলকাতায় রোজকার প্যাকেটের জিনিস বিক্রির ১২.৫ শতাংশ হয় বড় চেন আর সুপারমার্কেটে, যা দেশের গড় ৯.২ শতাংশের চেয়ে বেশি। সেই শহরেও FMCG বিক্রির বেশির ভাগ গিয়েছিল সাধারণ দোকানের কাউন্টার দিয়ে, যেখানে নিয়মিত পরিবারের বাকি এখনও একটা পাতা বা খাতা।