বাংলা

QR কোড দেখান, ইউপিআই-তে টাকা নিন

বাক্সে খুচরো নেই, ছুটকো কয়েন খুঁজতে হয় না। খদ্দের স্ক্যান করে টাকা দেন।

ওপর থেকে তোলা সবজির ঠেলা, ট্রেতে টমেটো, বিন, গাজর আর আলু, দাঁড়িপাল্লার কাছে বিক্রেতা
ওপর থেকে তোলা সবজির ঠেলা, ট্রেতে টমেটো, বিন, গাজর আর আলু, দাঁড়িপাল্লার কাছে বিক্রেতা ছবি: Sharvarism, CC BY-SA 4.0

ঠেলায়, ধাবায় আর ওষুধের কাউন্টারের পেছনে QR কোড যা নিয়ে কাজ করে

  • UPI পেমেন্ট

    ঠেলার সকালের ভিড়ে একজন খদ্দের QR স্ক্যান করেন, আর পরের জনের লেবু তখন ওজন হয়। তাই লাইন চলে দাঁড়িপাল্লার গতিতে, খুচরোর গতিতে নয়।

  • ফোনে বিল

    পাতিলেবু, ডালের থালা আর ট্যাবলেটের স্ট্রিপ, প্রতিটার একটা করে ছোট বিল হয় QR কোডের ফোনেই, যে খদ্দের চান তাঁর জন্য।

  • রোজের রিপোর্ট

    বন্ধের সময় ফল-বিক্রেতা ফোন থেকে দিনের বিক্রি পড়েন, আর ছোট নোটে ভরা বাক্স আগে গুনতে বসতে হয় না।

  • বাকির খাতা

    যে পরিবার প্রতি শনিবার ধাবার বিল মেটায়, তারা নিজের পাতা মেটানোর সময় কোডটা স্ক্যান করে।

  • কম স্টকের সতর্কতা

    রাতের ওষুধের কাউন্টারে তালিকায় একবার তাকালেই দেখা যায় কোন স্ট্রিপ ফুরোতে বসেছে, পরের প্রেসক্রিপশন হাতে খদ্দের ঢোকার আগেই।

রাস্তার ধারের ধাবার কাউন্টারে বড় স্টিলের হাঁড়ি, পেছনে রাঁধুনি আর খদ্দের
রাস্তার ধারের ধাবার কাউন্টারে বড় স্টিলের হাঁড়ি, পেছনে রাঁধুনি আর খদ্দের ছবি: Biswarup Ganguly, CC BY 3.0

কুড়ি টাকার বিক্রি, মাঝরাতের ট্রাক আর বন্ধের সময় ওষুধের কাউন্টার

  • ফলের ঠেলায় একশো টাকার নোটের খুচরো

    খদ্দের দুটো পাতিলেবু আর কয়েকটা কলা বেছে নেন, দাম হয় ছোট একটা গোল অঙ্ক। তিনি একশো টাকার নোট বাড়িয়ে ধরেন। আপনার কাছে খুচরো নেই, পরের খদ্দের অপেক্ষা করছেন, আর দুজনের একজনকে চায়ের দোকানে ভাঙাতে যেতে হয়। দিনে অনেক ছোট ছোট বিক্রিতে এভাবে এক মিনিট করে যায়। পরের খদ্দের লাইন দেখে পাশের ঠেলার দিকে হাঁটা দেন। ফল সকালে তাজা থাকে, আর যে খদ্দের একবার চলে গেল সে ওই ঘণ্টার বিক্রিটাও নিয়ে গেল।

  • ধাবার নগদ গোনা হয়ে যাওয়ার পরে আসা ট্রাক-ড্রাইভার

    ট্রাক ঢোকে অনেক রাতে, ড্রাইভার এক থালা ভাত-ডাল খায় আর টাকা দিতে চায়। ক্যাশবাক্স এক ঘণ্টা আগেই গুনে তুলে রাখা হয়েছে, আর তার পকেটের একমাত্র নোটটা বড় বেশি। ওই সময়ে খুচরোর জন্য অপেক্ষা করলে পরের টেবিলটা হাতছাড়া হয়। ধাবার হাঁড়ি তখনও গরম, রাঁধুনি তৈরি, আর বাধা শুধু একটা বড় নোট।

  • শেষ স্ট্রিপগুলো যায় বড় নোটে, আর খুচরো ফুরিয়ে যায়

    মাঝরাতে ওষুধের দোকানের বাক্সে থাকে দিনের দশের নোট, আর খদ্দেরের হাতে এক স্ট্রিপের জন্য একটা বড় নোট। তৃতীয় এমন বিক্রিতে বাক্স আর খুচরো দিতে পারে না, আর বড় নোটের খদ্দের অপেক্ষা করে যতক্ষণ মালিক বাক্স গোনেন।

ছোট ওষুধের দোকানের কাউন্টারে এক খদ্দের, পেছনে শিশির তাক
ছোট ওষুধের দোকানের কাউন্টারে এক খদ্দের, পেছনে শিশির তাক ছবি: Sujithshivam511, CC BY-SA 4.0
সবুজ পাতিলেবুর স্তূপের পাশে দাঁড়িপাল্লায় বাটখারা বসাচ্ছে বিক্রেতার হাত
সবুজ পাতিলেবুর স্তূপের পাশে দাঁড়িপাল্লায় বাটখারা বসাচ্ছে বিক্রেতার হাত

ঠেলা, ধাবা আর ওষুধের দোকানে QR কোড কোথায় বসে

  • ঠেলার বাঁশের খুঁটিতে QR কোড

    কোডটা সেঁটে দিন যেখানে দাঁড়িপাল্লা থামার সময় খদ্দেরের চোখ পড়ে। তিনি স্ক্যান করেন, পাতিলেবু আর কলার ঠিক দাম দেন, আর পর্দাটা আপনাকে দেখান। খুচরো নেই, চায়ের দোকানে হাঁটা নেই, আর পেছনের খদ্দের সঙ্গে সঙ্গেই এগিয়ে আসেন। একশো টাকার নোটের জন্য আর কাউকে আটকে থাকতে হয় না।

  • মাঝরাতের থালার জন্য ধাবার কাউন্টারে একটা কোড

    ড্রাইভার হাঁড়ির পাশে কাউন্টারের QR কোড স্ক্যান করে থালার টাকা দেয়। ক্যাশবাক্স খুলতে হয় না, আর সে ঠিক নোট খুঁজে পাওয়া পর্যন্ত আপনাকে অপেক্ষা করতে হয় না। টেবিল পরের ট্রাকের জন্য ফাঁকা।

  • মাঝরাতে ওষুধের দোকান, ড্রয়ারে খুচরো ছাড়াই

    মাঝরাত নাগাদ ড্রয়ারের ছোট নোট ফুরিয়ে যায়, আর প্রেসক্রিপশন হাতে খদ্দের বড় নোট বাড়িয়ে ধরেন। QR কোড দেখান। তিনি স্ট্রিপের ঠিক দাম দেন, একই ফোনে বিল বানানো হয়, আর ড্রয়ারে থাকে শুধু যা নগদ এসেছে।

যে দোকানে বিক্রি ছোট বা সময় বেশি রাত, তার প্রশ্ন

কুড়ি টাকার লেবুর বিক্রিতেও QR চলে। এত ছোট টাকায় কি কিছু কাটা যায়?

অর্থ মন্ত্রক ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে জানিয়েছে, ইউপিআই কাঠামোয় বিক্রেতাকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া পেমেন্টে বিক্রেতার দিকে কোনো ফি লাগে না। কুড়ি টাকার একটা লেবুর বিক্রিও তার মধ্যে পড়ে।

উৎসবের মাসে আমার ঠেলায় ইউপিআইয়ে বেশি টাকা আসে। ব্যাংককে ফি নিয়ে জিজ্ঞেস করার আগে কী পড়ব?

আগে ফোনে মাসের বিক্রি পড়ুন। দৈনিক রিপোর্ট উৎসবের সপ্তাহগুলোর প্রতিটা দিন যোগ করে, ইউপিআই আর নগদ আলাদা করে। অর্থ মন্ত্রক ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে জানিয়েছে, ইউপিআই QR কোডে মাসে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পাওয়া ছোট দোকান সেই পেমেন্টে কোনো ফি দেয় না, তাই মাসের ইউপিআই অঙ্কটা হাতে নিয়ে ব্যাংককে জিজ্ঞেস করুন।

খদ্দেরের পেমেন্ট আটকে আছে মনে হচ্ছে। জিনিস দিয়ে দেব?

খদ্দের টাকা দেওয়া হয়ে যাওয়ার পর্দাটা না দেখানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, যেমন নোট যাচাই হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। তারপর জিনিস দিন। তিনি দেখাতে না পারলে আবার টাকা দিতে পারেন বা নগদ দিতে পারেন।

খদ্দের ভুল করে বিলের চেয়ে বেশি টাকা দিয়েছেন। তফাতটা ফেরত দেব কীভাবে?

নগদে ফেরত দিন, বা আপনার নিজের ফোন থেকে ইউপিআইয়ে তাঁকে পাঠিয়ে দিন, যেমন যে কাউকে পাঠাতেন। কী ফেরত দিলেন তা তাঁকে বলে দিন, যাতে তিনি ভেবে না মরেন, আর তিনি নিশ্চিত হয়ে যান কত দিয়েছিলেন।

খদ্দের যাতে খুঁজে পায় তার জন্য QR কোডটা কোথায় রাখব?

খদ্দের যেখানে টাকা দেওয়ার সময় চোখ ফেরায় সেখানে: ঠেলার খুঁটিতে, হাঁড়ির পাশে কাউন্টারে, ওষুধের কাউন্টারের কাচে। আপনার ফোনেও রেখে দিন, যে খদ্দের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর জন্য।

সব দোকানের আরও প্রশ্ন

ভারতে QR কোড আর ইউপিআই, অঙ্কে

অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ সাল পর্যন্ত সারা ভারতে প্রায় ৬.৫ কোটি বিক্রেতার কাছে ৫৬.৮৬ কোটি পেমেন্ট QR কোড বসানো হয়েছে। খুঁটিতে, কাউন্টারে বা ঠেলায় একটা QR কোড এখন খদ্দেরের চোখ খোঁজা সাধারণ জিনিসগুলোর একটা।

NPCI সরকারকে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ইউপিআইয়ে প্রায় ৫৫.৪৯ কোটি মানুষ যুক্ত হয়েছেন। আপনার ঠেলা বা কাউন্টারে যিনি আসেন, তাঁর ফোনে ইউপিআই থাকার সম্ভাবনা না থাকার চেয়ে বেশি।