আন্দামান আর নিকোবরে আপনার দোকানের বিলিং
বিল, স্টক আর বাকির জন্য একটাই ফোন, এমন দ্বীপে যেখানে পরের জাহাজ ঠিক করে আপনি কী বেচতে পারবেন।

জাহাজ যা আনল তার গোনা, বিলে বিলে
ফেরার ফেরিতে মালিক দিনটা পড়ে নেন
মালিক সারা দিনের জন্য জল পেরিয়ে গেলে দোকান বিক্রি চালিয়ে যায়। ফেরার ফেরিতে তিনি ফোন খুলে এ পর্যন্ত দিনের বিক্রি পড়ে নেন, আর চাল ও তেল কতটা বাকি। তিনি তীরে নামেন জেনে দিনটা কী করল, আর পরের জাহাজের আগে কী চাইতে হবে।
দূর দ্বীপের মাসিক পরিবারের জন্য পাতা আগে থেকেই তৈরি
মাসে একবার ফেরি থেকে নামা পরিবারকে নতুন সহকারীই সামলাতে পারে। পরিবারের পাতা খুলে গত বারের বিলগুলো তাঁদের সঙ্গে পড়ে নিলেই হয়, মালিককে জিজ্ঞেস করতে হয় না তিনি কে। মাঝের সপ্তাহগুলো আর কোনো পক্ষের মনে রাখার ব্যাপার থাকে না। টাকার কথাটা, যা বছরের পর বছর চেনা পরিবারের সঙ্গে সবচেয়ে অস্বস্তির, বলে দেয় পাতা, আপনি নয়।
যে প্রশ্ন পরের ফেরিতে ফিরে আসে
একটা পরিবার বস্তা নিয়ে ফেরিতে বাড়ি ফেরে। পরের ফেরিতে চালের জন্য কত দেওয়া হয়েছিল সেই প্রশ্ন এলে উত্তর দোকানের খাতায় দিন সহ আগে থেকেই আছে। সেটা যায় পরিবারের ফোনে, চিঠিতে নয়। ছোট দ্বীপে যে পরিবার জিজ্ঞেস করে সেও প্রতিবেশী, আর প্রতিবেশীকে আন্দাজ বললে সে জেটিতে বলে বেড়ায়। যে খাতা এক মিনিটে উত্তর দেয় সে পরিবারকে জল পেরিয়ে ফিরিয়ে আনে, আর ফেরি তার পরের অর্ডার একই কাউন্টারে আনে।

যখন তাক তাকিয়ে থাকে পরের জাহাজের দিকে
আপনি যা বেচেন তার প্রায় সবটাই আগে সমুদ্র পার হয়েছে
আবহাওয়া বা জেটিতে ভিড়ের জন্য জাহাজ আটকে গেলে আপনার তাক আর ভরে না। মূল ভূখণ্ডের রাস্তায় পাশের পাইকারকে একটা কার্টন চাইলেই হত। এখানে সব পাইকারের জন্য একই জাহাজ, আর যাঁকে আপনি ফোন করতেন তিনিও আপনার মতোই সেই জাহাজের অপেক্ষায়। জাহাজ ঢোকা পর্যন্ত আপনার নিজের তাকে আর নিজের ঘরে যা আছে, দ্বীপের কাছে তা-ই সব।
ফেরিতে বাড়ি চলে যাওয়া পরিবারের বাকি
মাসের কিছু জিনিসের টাকা না দিয়ে কোনো পরিবার ফেরিতে বাড়ি ফিরে গেলে বাকিটাও তাঁদের সঙ্গেই চলে যায়, আর তাঁরা না ফেরা পর্যন্ত দোকান কিছু জিজ্ঞেস করতে পারে না। মালিকের অঙ্কটা মনে থাকে, কিন্তু এক মাস পরে কারও মনে থাকে না সেটা কোন বস্তা চালের জন্য।
টাকা আসে একসঙ্গে, ঢেলে
নারকেল তোলা বিক্রি হল, নৌকো ঢুকল, মজুরির দিন এল, আর এক সপ্তাহ কাউন্টারে ভিড়। তারপর আসে ফাঁকা দিন, যখন আপনি আবার সেই পরিবারগুলোকেই ধার দেন যারা গত সপ্তাহে আপনাকে টাকা দিয়েছিল। এখানে দোকান মানুষকে এক ঢেউ থেকে আরেক ঢেউ পর্যন্ত বয়ে নিয়ে যায়, আর পাতাগুলো কোথাও লেখা না থাকলে সে হিসাব বয়ে বেড়ায় মাথায়। ফাঁকা সপ্তাহ আসে ঠিক ঢেউ আসার আগে, যখন তাক সবচেয়ে ভরা আর পকেট সবচেয়ে খালি।


দ্বীপের দোকান একটা ফোন থেকে যা যা করতে পারে
অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করুন
পোর্ট ব্লেয়ারের একজন পাইকার জলের ওপারের ছোট দোকানকে বাকিতে কেনার আবেদন করতে দেন। তাই ছোট দোকান জাহাজের মাঝের সময়েও মাল চাইতে পারে, আর পাইকার তার প্রথম অর্ডার তৈরি দেখেন।
গুদামের স্টক
জেটির ধারের গুদাম আর রাস্তার ওপরের তাক আলাদা গোনা, যাতে খালি তাক কাউকে পাঠায় রাস্তার ওপরে, মূল ভূখণ্ডের সাপ্লায়ারের কাছে নয়। জাহাজ থেকে মাল নামলে সেদিনই গুদামের গোনায় লিখে রাখুন, তাহলে তাক ফাঁকা হলে ফোনেই দেখা যায় গুদামে আছে কি না।
বাকির খাতা
মাসের কিছুটা বাকি রেখে ফেরিতে বাড়ি যাওয়া পরিবারের নিজের একটা পাতা, প্রতিটি বিল তারিখ সহ, তাঁদের ফেরার অপেক্ষায়।
আন্দামান আর নিকোবরের দোকানদাররা আগে যা জিজ্ঞেস করেন
পাশের দ্বীপে আমার ভাইয়ের দোকান শহরে আমার দোকানের মতো একই চাল বেচে। জলের ওপারে ফোন না করেই কি দেখতে পারি দুজনের কার কাছে কত চাল আছে?
একই সন্ধ্যায় ফোনে দুটো গোনাই পড়ুন। জলের ওপারে একটা ফোনও করতে হয় না। কোন জাহাজ বস্তাটা এনেছে তা লিখে রাখুন, আর পার হওয়ার পরের দিন নেওয়া গোনা দেখায় কোন দ্বীপ পেল আর কোনটার কম পড়ল।
কোপরা কেজিতে ওজন হয় আর টাটকা নারকেল গুনে বেচি পিস হিসাবে। দুটোই কি একই খাতায় রাখা যায়?
যায়। কোপরা কেজি পিছু দামের একটা জিনিস, টাটকা নারকেল পিস পিছু দামের আরেকটা। একটা বিলে দুটোই থাকতে পারে। কোপরার গোনা কেজিতে কমে, নারকেলের গোনা পিসে।
জাহাজ ভেড়ে, কিন্তু পাইকার যত বস্তা তুলেছিলেন তার চেয়ে কম বস্তা নিয়ে। আমি কী লিখব, আর কখন?
জাহাজ যেদিন আসে সেদিনই দরজায় যে গোনা করেন তা লিখুন। সেটা অর্ডারের পাশে থাকে, তাই পাইকারের তোলা সংখ্যা আর আপনার নামানো সংখ্যা দুটো লাইন, আর ফাঁকটার গায়ে তারিখ থাকে।
বন্দর আর কোপরা: এই দ্বীপগুলো যা বেচে তা কীভাবে পায়
দক্ষিণ আন্দামানের সদর পোর্ট ব্লেয়ারে মূল ভূখণ্ডের জাহাজের জন্য তিনটে বন্দর আছে: হ্যাডো, হার্ফ আর চ্যাথাম। শহরটা চেন্নাই থেকে প্রায় ১,১৯০ কিমি আর কলকাতা থেকে প্রায় ১,২৫৫ কিমি দূরে। দোকানদারের কাছে এই দূরত্বটাই প্রতিবার মাল ভরার পথ, আর সে জন্যই মূল ভূখণ্ডের রাস্তার চেয়ে এখানে হাতে কী আছে তার গোনা বেশি দরকারি।
কোপরা, শুকনো নারকেলের শাঁসের ব্যবসা, বহুদিন ধরে নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের প্রধান ভরসা। বাইরের জিনিস পেতে নিকোবর প্রায় পুরোপুরি কোপরা রপ্তানির ওপর নির্ভর করত (২০১০ সালের রিপোর্ট)। নিকোবরের দোকান বহুকাল এভাবেই চলেছে: যা যায় তা নারকেল, যা ফেরে তা বাকি সবকিছু, আর দুইয়ের মাঝখানের হিসাব দোকানের।