GST হিসাব করা বিল বানান
তিনটে জিনিস, তিনটে হার, আর মোট জানার অপেক্ষায় খদ্দের। যোগের কাজটা বিলকেই করতে দিন।

প্রথম যে ক্রেতা GST বিল চান, আর পাঁচ হারের রঙের বিল
কুড়িটা চার্জারের GST বিল চান যে ক্রেতা
পাশের গলির সারাইয়ের দোকানের এক লোক কুড়িটা চার্জার, এক বাক্স ইয়ারফোন আর কয়েকটা কভার কিনে GST বিল চান। প্রতিটা জিনিসের নিজের ট্যাক্স, তাই তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন আর আপনি ক্যালকুলেটরে লাইন ধরে ধরে হিসাব করেন। অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, GST করদাতার সংখ্যা ২০১৭ সালের ৬৬.৫ লক্ষ থেকে ২০২৬ সালের মে মাসে ১.৬৫ কোটি হয়েছে, তাই আপনার আরও বেশি ক্রেতা এখন বিল চান।
ঠিকাদারের জন্য রঙের দোকানের বিল, পাঁচ লাইন আর পাঁচ হার
এক কৌটো রং, দুটো ব্রাশ, এক রোল মাস্কিং টেপ, থিনার আর একটা চাঁছনি: পাঁচ লাইন, আর সবগুলোর ট্যাক্স এক নয়। ঠিকাদারের অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিলে প্রতিটা লাইনের ট্যাক্স দেখেন। একটা লাইন ভুল হলে গোটা বিল ফেরত পাঠান, আর সাইটে ঠিকাদারের মিস্ত্রিরা বসে থাকে, ওদিকে দোকানদার বিলটা নতুন করে লেখেন। তিনি অঙ্কটা মাথায় কষেছিলেন, অ্যাকাউন্ট্যান্ট কষেছেন ক্যালকুলেটরে।
রেজিস্ট্রেশনের অপেক্ষায় ঘরোয়া বিক্রেতা
এক মহিলা বাড়ি থেকে প্রতিবেশীদের পরিবারে আচার আর প্যাকেটের নোনতা বেচতে শুরু করেছেন, অর্ডার নেন WhatsApp-এ। তিনি শুনেছেন কম ঝুঁকির আবেদনকারীদের তিন কাজের দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়, আর রাজ্যের মধ্যে জিনিস বেচা ছোট ই-কমার্স বিক্রেতাদের ২০২৩ সালের অক্টোবরে রেজিস্ট্রেশন থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে কোনটা তাঁর, তিনি জানেন না। যতদিন না জানছেন, তাঁর বিলে কোনো ট্যাক্স নেই, আর কী লিখবেন তাও তিনি জানেন না।


ফোনের অ্যাকসেসরিজের কাউন্টার, রঙের দোকান আর ঘরোয়া বিক্রেতার GST বিলের সঙ্গে যা থাকে
GST বিল
কুড়িটা চার্জার, এক বাক্স ইয়ারফোন আর পাঁচটা কভার তিনটে লাইন, প্রতিটার ট্যাক্স হিসাব করা, আর সারাইয়ের দোকানের লোক মোট দেখেন নীচে।
ফোনে বিল
সারাইয়ের দোকানের লোক যখন চার্জারগুলো গুনে ব্যাগে ভরছেন, ট্যাক্স সহ বিলটা তখনই তাঁর WhatsApp-এ পৌঁছে গেছে।
বাকির খাতা
মাসের শেষে রঙের দাম মেটানো ঠিকাদারের একটা পাতা আছে, যেখানে প্রতিটা ট্যাক্স-বিল তারিখ সহ বসে। তাই তাঁর অ্যাকাউন্ট্যান্ট মাসের জন্য একটাই পাতা পড়েন, এক গাদা স্লিপ নয়।
আপনার নিজের অনলাইন দোকান
বাড়ি থেকে আচার বেচা মহিলার একটা দোকান-পাতা আছে পরিবারগুলোকে পাঠানোর জন্য, তাঁর জিনিস সহ, প্রথম GST বিল বানানোরও আগে।
রোজের রিপোর্ট
একটা দিন খুলুন আর সেদিনের প্রতিটা বিল দেখুন, তাই অ্যাকাউন্ট্যান্টের কোনো এক বিকেল নিয়ে প্রশ্নের উত্তর মেলে।

চার্জার থেকে রঙের কৌটো, প্রতিটা লাইনে ট্যাক্স
জিনিসের হার একবারই, ট্যাক্স হিসাব হয় প্রতিটা বিলে
কুড়িটা চার্জারের বিলে অঙ্ক প্রতিবার একই, আর অ্যাপ তা কষে দেয়। সারাইয়ের দোকানের লোকের অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিটা লাইনের নীচে ট্যাক্স সহ বিলটা একবার পড়েন, ফোন করা বন্ধ করেন। লোকটা নিজের বেঞ্চে ফেরার আগেই বিল তাঁর WhatsApp-এ পৌঁছে যায়। আপনাকে আর ক্যালকুলেটরে লাইন ধরে ধরে কষতে হয় না, আর তাঁকেও দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় না।
যে বিল ঠিকাদারের অ্যাকাউন্ট্যান্ট লাইন ধরে পড়তে পারেন
প্রতিটা লাইনে GST থাকায় রঙের দোকানের বিল পরিষ্কার দেখিয়ে দেয় মোট কেন এত। অ্যাকাউন্ট্যান্ট নিজের তালিকার সঙ্গে একটা লাইন মিলিয়ে নিতে পারেন। কম বিল ফেরত আসে, আর সাইটের মিস্ত্রিদের শুধরানো স্লিপের জন্য বসে থাকতে হয় না।
GST সহ তাঁর প্রথম বিল আর দশম বিল একই রকম
রেজিস্ট্রেশন এলে আচার-বিক্রেতা মহিলা আগের মতোই বিল বানান, শুধু জিনিসের নীচে ট্যাক্স হিসাব হয়ে থাকে। রেজিস্ট্রেশনের দিন নতুন কোনো কাগজ শিখতে হয় না। প্রতিবেশীর WhatsApp-এ যে বিল যায়, তা যে কোনো দোকানের মতোই পরিষ্কার দেখায়। যে প্রতিবেশী এক বয়াম আচার আর এক প্যাকেট নোনতা অর্ডার করেন, তিনি আর সব দোকানের মতো একই জায়গায় GST দেখতে পান।
যে দোকান সবে GST বিল দিতে শুরু করেছে, তার প্রশ্ন
রঙের ঠিকাদারের অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিলের লাইন ধরে মেলান। রিটার্ন কি ভারতরথ জমা দেয়?
না। ঠিকাদারের অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিলের লাইনগুলো পড়েন, আর আপনার নিজের অ্যাকাউন্ট্যান্ট রিটার্ন আলাদা করে জমা দেন। ভারতরথ GST হিসাব করা বিল বানায়। রিটার্ন জমা এখন যেভাবে করেন সেভাবেই হয়।
একটা রঙের কৌটো বা চার্জারে কত GST হার বসাব, বুঝব কীভাবে?
আপনার অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা সরকারি হারের তালিকা বলে দেবে। জিনিসে একবার হারটা বসিয়ে দিন, তার পরের প্রতিটি বিল সেটাই ধরে। হার অ্যাপ নিজে ঠিক করে দেয় না।
GST বিল বানাতে কি ট্যাক্সের নিয়ম জানতে হবে?
না। প্রতিটি জিনিসে ট্যাক্স একবার বসিয়ে দিন, তারপর প্রতিটি বিল লাইন ধরে ধরে ট্যাক্স হিসাব করে নেয়। ক্রেতাকে আপনি যে বিল দেন তা সে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত পড়তে পারে, প্রতিটি লাইনের পাশে সেই লাইনের ট্যাক্স।
ঠিকাদারের সঙ্গে এক কৌটো রং আর একটা ব্রাশের একটাই দাম ঠিক হয়েছে। বিলে সেটা কীভাবে দেখাবে?
বিলে কৌটো আর ব্রাশ দুটো আলাদা লাইনে ওঠে, প্রতিটার ট্যাক্স সেই জিনিসের বসানো হার থেকে হিসাব করা। ঠিকাদার দুটো লাইন আর তার নিচে মোট দেখেন, তাই নিজের জোগালির তালিকার সঙ্গে মেলাতে পারেন।
ক্রেতা তাঁর অ্যাকাউন্ট্যান্টের জন্য মাসের সব GST বিল একসঙ্গে চান। এক বারে দিতে পারব?
তাঁকে একটা নিজের পাতা দিন। তাঁর নামে যত বিল বানিয়েছেন সব তারিখ আর ট্যাক্সের লাইন সহ সেই পাতায় থাকে, তাই একসঙ্গে পড়ে WhatsApp-এ তাঁকে পাঠিয়ে দিতে পারেন।
সারাইয়ের দোকানের লোক এখন থেকে প্রতিটা বিলে তাঁর ফার্মের নাম চান। প্রতিবার টাইপ করব?
না। তাঁকে ফার্মের নাম লেখা একটা নিজের পাতা দিন, তার নামে যে বিল বানাবেন সেগুলোতে নামটা থাকবে।
GST রেজিস্ট্রেশনের সীমা, অঙ্কে
অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে জিনিস সরবরাহকারীদের GST রেজিস্ট্রেশনের সীমা ২০ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ লক্ষ টাকা হয়েছে। বছরে জিনিস বেচার অঙ্কই ঠিক করে দোকান ওই রেখার কোন দিকে।
অর্থ মন্ত্রক জানিয়েছে, GST কম্পোজিশন স্কিমের সীমা ৭৫ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ১.৫ কোটি টাকা হয়েছে, যাতে ছোট করদাতারা টার্নওভারের একটা বাঁধা হারে ট্যাক্স দিতে পারেন। স্কিমটা কোনো দোকানের পক্ষে ভালো কি না তা বলবেন তার অ্যাকাউন্ট্যান্ট। বাছার আগে দোকানদারের জিজ্ঞেস করা উচিত, কারণ স্কিম বদলে দেয় বিলে কী দেখানো যায়।