বাংলা

মুদির দোকানের বিলিং, ভারতের যে কোণেই হোক

খোলা চিনি, প্যাকেটের বিস্কুট, গলির বাকি আর ইউপিআই স্ক্যানার, সব একটা বিলে আপনার ফোনে।

বয়াম, প্যাকেট আর ছোট ছোট স্যাশেতে ঠাসা ছোট দোকানে কাউন্টারের পেছনে হাসিমুখ এক দোকানি
বয়াম, প্যাকেট আর ছোট ছোট স্যাশেতে ঠাসা ছোট দোকানে কাউন্টারের পেছনে হাসিমুখ এক দোকানি

তাক আর খাতা যখন মিলে যায়, তখন দিনটা কেমন কাটে

  • তিন ব্র্যান্ড আর চার মাপ: সন্ধ্যায় দেখা যায় গলি কোনটা নেয়

    শহরের গলির মুদি একটা সাবান বা বিস্কুট রাখে তিন ব্র্যান্ডে আর চার মাপে। প্রতিটি ব্র্যান্ড আর মাপ আলাদা জিনিস করে রাখুন। সন্ধ্যার বিক্রিতে দেখা যায় বারোটার মধ্যে কোনগুলো গলি কেনে আর কোনগুলো শুধু তাকে দাঁড়িয়ে থাকে। পরের পাইকারি অর্ডারে যেগুলো দাঁড়িয়ে ছিল সেগুলো বাদ যায়, আর তাক এবং তাতে আটকে থাকা টাকা ফাঁকা হয় যেগুলো বিক্রি হল তাদের জন্য।

  • স্ক্যানার বিলের পাশে থাকে, খাতার পাশে নয়

    গোয়ায় ইউপিআই স্ক্যানার মুদির দোকানে পাকা জায়গা করে নিয়েছে, আর এক জানুয়ারিতেই রাজ্যে ৪ কোটির বেশি ইউপিআই লেনদেন হয়েছিল, মোট ৬,০৬৪ কোটি টাকার। যে ফোনে বিল বানান সেই ফোন থেকেই স্ক্যানার দেখানো হয়, তাই বিল আর টাকা শুরু হয় এক জায়গা থেকে, আর রাতে দিনের বিক্রি সেই এক ফোনেই পড়েন।

  • সপ্তাহে একবারের সফরের ব্যাগে আগে চিনি আর তেল, বিয়ের জন্য চাল আর আটা

    বড় উৎসবের আগে চিনি, তেল আর শুকনো ফল সবার আগে যায়, আর বিয়ের মরশুমে চাল আর আটা তাড়াতাড়ি ফুরোয়। দূরের বাজারে যাওয়ার আগে গত বছরের একই সপ্তাহের বিলে এই জিনিসগুলোর লাইন পড়ে নিন, কারণ ওই সফরই তাক ভরার একমাত্র সুযোগ। ফেরার ব্যাগ আগে ভরা হয় সেগুলো দিয়ে, বাকি তাক পরের সফরের জন্য অপেক্ষা করে।

হাতে লেখা দামের ট্যাগ লাগানো শস্য আর চায়ের খোলা সাদা বস্তা, পেছনে মাল ওজন করছেন এক দোকানি
হাতে লেখা দামের ট্যাগ লাগানো শস্য আর চায়ের খোলা সাদা বস্তা, পেছনে মাল ওজন করছেন এক দোকানি ছবি: Guilhem Vellut from Annecy, France, CC BY 2.0

হিমালয় থেকে সাগরপাড় পর্যন্ত মুদির কাউন্টারে যা যা ভিড় করে

  1. শত শত জিনিস, প্রতিটা বিক্রি হয় আলাদা ভাবে

    হিমালয় থেকে সমুদ্র পর্যন্ত যে কোনও মুদির দোকানে গেলে কাউন্টারটা একই রকম দেখায়: ছোট ছোট জিনিসের একটা দেওয়াল, যার হিসাব লিখে রাখার সময় কারও নেই। পাহাড়ি গ্রামে তালিকা ছোট, আর প্রতিটি জিনিস কেউ না কেউ কাঁধে করে ওপরে তুলেছে, তাই একটা জিনিস না থাকা মানে এক সপ্তাহের অপেক্ষা। শহরের গলিতে তালিকা লম্বা, আর প্রতিটি জিনিস আসে তিন ব্র্যান্ডে আর চার মাপে। কোন জিনিস কোথায় আছে তা জানেন শুধু মালিক, আর তিনি একদিন দোকানের বাইরে থাকলে দোকানও তা আর জানে না।

  2. পাইকারি বাজার একটা সম্পর্ক, আর বিল থেকে যায় হাতেই

    মাল আসে পাইকারি গলি থেকে, আর মালিক প্রায়ই নিজে যান। দিল্লির খারি বাউলির ব্যবসায়ীরা বলেন, তাঁরা কুড়ি বা তিরিশ বছর ধরে একই ক্রেতার সঙ্গে কারবার করেন, আর তাঁদের কারবারের বেশিরভাগ চলে সেই ভরসায়, ডিজিটাল ব্যবস্থায় নয়। সেই ভরসা ভালো। কিন্তু পাইকারের কাগজের স্লিপটাই একমাত্র হিসাব, আর পরের মাসে কেউ মনে রাখে না শেষ বস্তা ডাল কত দামে এসেছিল।

  3. গলির প্রতিটি বাড়ির খাতায় একটা পাতা

    মুদি এমন একটা দোকান, যেখানে একটা পরিবার আজ এক সপ্তাহের মাল নিয়ে মাসের পয়লায় মেটাতে পারে, বা যখন মাইনে, ফসল বা বিয়ের টাকা আসে। খাতা রাখে কাউন্টারে যে বসে সে। খদ্দের যখন বলেন মোট অঙ্কটা ভুল, তখন সামনে থাকে খাতা, একটা পেন্সিল, আর লাইনের সামনে এক লম্বা তর্ক।

পুরনো দিল্লির খারি বাউলিতে খোলা বস্তার ওপর বাটিতে খোলা গাঢ় চা পাতা, প্রতিটায় হাতে লেখা দামের ট্যাগ
পুরনো দিল্লির খারি বাউলিতে খোলা বস্তার ওপর বাটিতে খোলা গাঢ় চা পাতা, প্রতিটায় হাতে লেখা দামের ট্যাগ ছবি: Michael Vito from South Orange, NJ, USA, CC BY-SA 2.0

যে কাউন্টারে সবকিছু বিক্রি হয়, তার কাজের সরঞ্জাম

  • ফোনে বিল

    খোলা বস্তা থেকে মেপে নেওয়া ডাল, একশো গ্রামে বিক্রি হওয়া মশলা আর সিল করা এক প্যাকেট নুনের জন্য একটাই বিল।

  • বাকির খাতা

    যে পেনশনভোগী পেনশনের দিনে হিসাব মেটান তাঁর একটা পাতা, আর যে রাজমিস্ত্রি সপ্তাহে মজুরি পান তাঁর আরেকটা, দুটোই পড়া হয় নিজের নিজের দিনে।

  • সরবরাহকারীকে অর্ডার

    যে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বছরের পর বছর কিনছেন, তাঁর শেষ ডালের বস্তার কত দাম পড়েছিল তা এই সপ্তাহের দামের পাশে লেখা থাকে।

  • কম স্টকের সতর্কতা

    পাইকারি শহর থেকে বাসে অনেকটা দূরের দোকানের জন্য, ফুরিয়ে আসা জিনিসের তালিকাই ঠিক করে দেয় ফেরার একটা থলেতে কী ভরা হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি পাহাড়ের রিয়াংডোতে মুদির স্টলে দুই মহিলা, নীল কাপড়ে সবুজ লঙ্কা আর আদার বাটি
দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি পাহাড়ের রিয়াংডোতে মুদির স্টলে দুই মহিলা, নীল কাপড়ে সবুজ লঙ্কা আর আদার বাটি ছবি: Timothy A. Gonsalves, CC BY-SA 4.0

যে প্রশ্ন শুধু মুদির মালিকই করেন

আমি পুরো এক বস্তা ডাল কিনি আর বেচি সিকি কেজি করে। গোনা কমে কীভাবে?

ডালকে কেজিতে গোনা একটাই জিনিস হিসাবে রাখুন। প্রতি সিকি কেজি বিক্রিতে সিকি কেজি কমে, আর নতুন বস্তা এলে তার কেজি যোগ হয়।

ডাল, চাল আর চায়ের খোলা বস্তা কাউন্টারে পড়ে আছে, প্রতিটার গায়ে হাতে লেখা দাম। সেই একই দামের তালিকা কি ফোনে রাখা যায়?

হ্যাঁ। বস্তার গায়ে হাতে লেখা দাম ততটাই ভরসার, যতটা খদ্দেরের মনে থাকে। প্রতিটি বস্তাকে নিজের দাম দিয়ে একটা জিনিস হিসাবে রাখুন, তাহলে বিলে সেই একই দাম লেখা থাকে, আর ভরসা দাঁড়ানোর জন্য একটা কাগজ পায়।

আমার পাইকারি বাজার কয়েক ঘণ্টার পথ, সপ্তাহে একবার যাই। যাত্রাটা কীভাবে সাজাব?

ভারী বস্তার জন্য নগদ টাকা নিন, আর ভেঙে যাওয়ার মতো জিনিসের জন্য একটা ব্যাগ। সবার আগে তুলুন যা এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে পারে না: নুন, তেল আর দেশলাই, যা ঘরে কয়েক দিনেই ফুরোয়। চাল আর চিনি পরের চালানে আসতে পারে। একটা জিনিস ভুলে গেলে এক সপ্তাহ সেটা ছাড়াই চলতে হয়।

একই চিনি এক বাড়িকে খোলা বেচি, আরেক বাড়িকে প্যাকেটে। মোট কত চিনি বিক্রি হল কোথায় দেখব?

খোলা চিনি আর প্যাকেটের চিনি, দুটোই আলাদা জিনিস, আর দিনের বিক্রিতে প্রতিটার নিজের লাইন আছে। মোট চিনির জন্য দুই লাইন যোগ করুন, আর দেখুন কোন ভাবে বিক্রি বেশি দ্রুত চলে।

সব দোকানের আরও প্রশ্ন

দূরে দূরে দুটো মুদির কাউন্টার: সিগন্যাল আর পাইকারি ইউনিট

পে-নিয়ারবাই-এর এক রিপোর্ট বলছে, ২০২৪ সালে উত্তর-পূর্বে স্থানীয় দোকানদারের মাধ্যমে নগদ তোলার (এইপিএস) বৃদ্ধিতে সামনে ছিল মিজোরাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড আর আসাম। অনেক গ্রামে মুদির কাউন্টারই সেই জায়গা যেখানে লোকে নগদ টাকা তোলে, তাই আর কারও আগে দোকানের নিজের হিসাব ঠিক থাকতে হয়।

হিমাচল প্রদেশে রাজ্যের নিগম চালায় ১২১টা পাইকারি ইউনিট, প্রতিটা প্রায় ৪২টা ন্যায্য মূল্যের দোকানকে মাল জোগায়, আর তালিকাভুক্ত পরিবহনকারীদের মারফত দোকানের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়।