অন্য দোকানকে মাল বেচুন, তারা বাকিতে কেনার আবেদন করুক
গলির মুখে নতুন এক দোকান এক মাসের বাকি চায়, আর আপনার হাতে শুধু একটা মুখ।

কলা, গুড় আর ডালের পাইকারের কাছে দোকানের আবেদনের পাশে যা থাকে
অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করুন
নতুন ফলের দোকানের মালিক আর তাঁর খুড়তুতো ভাই ফোন থেকে আবেদন করেন, আর কলার পাইকার গলির মুখে দাঁড়িয়েই সেই আবেদন পড়ে তারপর হ্যাঁ বলেন।
বাকির খাতা
গত মাসে যে দোকানকে হ্যাঁ বলেছেন, আপনার অ্যাকাউন্টে তার একটা পাতা আছে, যেখানে ঠেলাগাড়ি-ভরা কাঁদির প্রতিটা চালান একটা তারিখ-লেখা বিল, আর মোট আগেই যোগ করা।
গুদামের স্টক
গুড়ের পাইকার দুটো গুদামে ভেলি রাখেন, আর প্রতিটির গোনা দেখায় লরি কী এনেছে। তাই যে দোকান ফোন করে তাকে বলে দেওয়া যায় কোন গুদামে তার ব্লক আছে।
ফোনে বিল
চল্লিশ বস্তা ডালের বিল গলি থেকেই দোকানির WhatsApp-এ চলে যায়, আর একটা কাগজের জন্য লরি আটকে থাকে না।
রোজের রিপোর্ট
গলির শেষে এসে দিনের বিলগুলো পড়ে দেখা যায় কতগুলো দোকানকে মাল দেওয়া হল আর কত বেরিয়ে গেল।

যে দোকান আবেদন করে, যে পাইকার ঠিক করেন
খুড়তুতো ভাইয়ের বন্ধু আবেদন করেন, পাইকার আবেদন পড়েন
নতুন দোকানি নিজের ফোন থেকে কলার পাইকারের কাছে বাকিতে কেনার আবেদন করেন। পাইকার দেখেন কে চাইছে, কোন দোকানের জন্য, আর গলির লোকের সঙ্গে একটু কথা বলে ঠিক করেন। হ্যাঁ বললে দোকানটা একটা পাতা-সহ খদ্দের হয়ে যায়, আর পরদিন সকালেই প্রথম কাঁদিগুলো যায়। নতুন দোকান আর ঠেলাগাড়ির ওপারের একটা মুখ নয়।
যে দোকান ফোন করে, সে আগে থেকেই তালিকায়
গুড়ের ব্যবসায়ী যে দোকানগুলোকে হ্যাঁ বলেছেন, তাদের চেনা যায় নাম আর দোকান ধরে, গলা ধরে নয়। লরি ঢোকার পর তাদের কেউ ফোন করলে ব্যবসায়ী পাতা দেখেন, আর হিসাব লেখা হয়ে যায়। যে দোকান আবেদন করেনি, তাকে আবেদন করতে বলা হয়। তাই লরি খালি করার ব্যস্ততার মধ্যে কাকে কথা দেওয়া হল, সে প্রশ্ন আর ওঠে না।
সেলস ছেলে পাইকারের নিজের গোনা নিয়ে দোকানে যায়
ডাল-চালের পাইকার তাঁর স্টক রাখেন নিজের অ্যাকাউন্টে, আর ছেলেটার ফোনে তা দেখার সুযোগ আছে। কোনো দোকান চল্লিশ বস্তা চাইলে ছেলেটা তখনই বলে দিতে পারে গুদামে তা আছে কি না। যে দোকান বাকিতে কিনতে চায় সে আবেদন করে, আর হ্যাঁ বলার কাজটা পাইকারের।


কলার গলিতে খুড়তুতো ভাইয়ের নামের ভরসা, গুড়ের লরি আর ফোন হাতে সেলস ছেলে
খুড়তুতো ভাইয়ের নামই সব রেফারেন্স
কলার পাইকার শহরের সব ফলের দোকানে মাল দেন। গলির মুখে এক নতুন দোকানি এসে হাজির হন, সঙ্গে এক খুড়তুতো ভাই যে কাউকে চেনে। তিনি রোজ দশ কাঁদি বাকিতে চান আর মাসের শেষে টাকা দেবেন বলেন। পাইকারের হাতে শুধু একটা মুখ আর একটা নাম, আর ঠেলাগাড়ির এপার থেকে তিনি হ্যাঁ বা না বলে দেন। দোকান টাকা না দিলে ওই ভাইকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
গুড়ের লরি ঢোকে আর দোকানগুলো ফোন করে
গুড়ের ব্যবসায়ীর লরি ঢুকতেই ফোন বাজতে শুরু করে। একের পর এক দোকান বলে, এত ভেলি আমার নামে লিখে রাখুন। কয়েকজনকে তিনি গলা শুনে চেনেন, কয়েকজনকে একেবারেই চেনেন না। সন্ধ্যা হতে হতে কোন দোকানকে কথা দিয়েছিলেন আর কার কাছ থেকে শুধু শুনেছিলেন, তিনি আর বলতে পারেন না। কাউকে ফিরিয়ে দিলে সম্পর্ক যায়, সবাইকে দিলে হিসাব যায়।
অর্ডার নেওয়া সেলস ছেলে স্টকের কথা বলতে পারে না
ডাল-চালের পাইকার একটা ছেলেকে ফোন দিয়ে দোকানে দোকানে পাঠান। দোকানি যা চান বলেন, ছেলেটা তা লিখে নেয়, কিন্তু গুদামে তা আছে কি না, লরি পৌঁছলে দর কত হবে, সে বলতে পারে না। গুদামে কেউ না দেখা পর্যন্ত দোকানের অর্ডার একটা আশা মাত্র, আর দোকানি ফোনে দুবার জানতে চান মালটা আসবে তো।
যে পাইকাররা এখনই ভরসায় দোকানে মাল দেন, তাঁদের প্রশ্ন
যে দোকান কয়েক মাস ফোন করেনি, সে একটা পুরো লরির জন্য ফোন করল। তার পাতা না দেখেই কি লরি বোঝাই করব?
না। তার পাতাটা খুলতে যে এক মিনিট লাগে, লরি সেটুকু অপেক্ষা করতে পারে। তার শেষ অর্ডার আর তারপর যা দিয়েছে, দিন সহ ওখানেই আছে। পাতা পরিষ্কার থাকলে লরি বোঝাই করুন। না থাকলে দোকানকে বলুন পাতা পরিষ্কার হলে মাল যাবে।
কলার পাইকার মাসের শেষে ঠেলায় ঘুরে টাকা তোলেন। পথে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কী দেখবেন?
বেরনোর আগে দোকানের পাতা ফোনে খুলে নিন, কী নিয়েছে আর কত দিয়েছে সবই সেখানে। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে পাতা দেখিয়ে অঙ্কটা বলুন, আর যা দিল তা পাতায় লিখে ফেলুন। টাকা তোলা এখন যেভাবে করেন সেভাবেই হয়, অ্যাপ তা তোলে না।
গুড়ের লরি ঢুকতেই এক দোকান ফোন করে মাল চায়, আবেদন ছাড়াই। কী করব?
প্রথমবার নগদে দিন, কাউন্টারের নগদের বিলের মতো। বাকিতে চাইলে তাকে আবেদন করতে বলুন, আর আপনি হ্যাঁ বললে সেই দোকানের পাতা খোলে।
দুটো শহরের দোকানে মাল দিই। সবাই কি আমার কাছে আবেদন করতে পারে?
হ্যাঁ। যে দোকানগুলো আবেদন করে তারা আপনার খদ্দের, যেখানেই থাকুক। প্রত্যেকে আপনার অ্যাকাউন্টে নিজের পাতা পায়।
ঠেলার সামনে নগদে কেনা আর আবেদন করা দোকানের বাকির বিল দিনের বিলে আলাদা চেনা যায়?
হ্যাঁ। নগদের ক্রেতার বিল শুধু বিল হয়ে থাকে, তার কোনো পাতা খোলে না। আবেদন করা দোকানের বিল তার নিজের পাতায় যায় আর মোটে যোগ হয়। রাতে নগদের বিল আর বাকির বিল আলাদা করে পড়া যায়, কারণ বাকির বিলগুলো পাতার নামে ওঠে।
আবেদন করা দোকানটা যে সত্যিকারের, বুঝব কীভাবে?
গলিতে খোঁজ নিন, আর চাইলে এখন যেমন যান, গিয়ে দেখে আসুন। আবেদনে জানা যায় কে চাইছে আর কোন দোকানের জন্য। হ্যাঁ বা না আপনার বিচার।
পাইকারি গলি থেকে দেখা কিরানা ব্যবসা, তিনটে রিপোর্টে
Inc42-এর ২০২৬ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী ১.৪ কোটির বেশি কিরানা দোকান ভারতের FMCG বিক্রির প্রায় ৭৫-৮০% সামলায়। ওই প্রতিটা দোকানের পেছনে এক পাইকার আছেন, যিনি ঠিক করেন তাকে বাকিতে মাল দেবেন কি না। তাদের প্রত্যেকে এই পাতার পাইকারদের মতো কারও সম্ভাব্য খদ্দের।
Inc42-এর ২০২৬ সালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, অনেক কিরানা দোকান ডিস্ট্রিবিউটরের সেলস প্রতিনিধিকে বা ফোনে অর্ডার দেয়, আর প্রায়ই জানে না কী স্কিম চলছে বা ডেলিভারি কবে আসবে। কোনো দোকান আপনার কাছে আবেদন করলে এই দুটো উত্তর তাকে দেওয়া আপনার দায়: আপনি কী পাঠাতে পারবেন, আর কোন দিন লরি তার কাছে পৌঁছবে।
DPIIT জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চে হায়দরাবাদে চালুর পর কিরানার জন্য ONDC-ভিত্তিক একটা B2B অর্ডার নেটওয়ার্কে ১০,০০০-এর বেশি খুচরো বিক্রেতা আর ৩৫টা ব্র্যান্ড যোগ দিয়েছে। দোকান থেকে দোকানে কেনাবেচা যে ফোনে উঠে আসছে, এটা তার আরও একটা চিহ্ন।