প্রতিটা শাখার স্টক আর বিক্রি, এক অ্যাকাউন্ট থেকে
ছটা শাখা, ছটা খাতা, আর রোজ রাতে আপনার ফোনে সেগুলোর ছটা ছবি।

মিষ্টির ব্র্যান্ডের রাতের ছবি, ছোট শহরে জুতোর সাইজ আর দুই ইউনিটের ফ্র্যাঞ্চাইজি-মালিক
ছটা শাখা পাঠায় ছটা খাতার ছটা ছবি
এক স্থানীয় মিষ্টির ব্র্যান্ডের ছোট ছোট শহরে ছটা শাখা, প্রতিটার নিজের ম্যানেজার। রাতে প্রত্যেক ম্যানেজার সেদিনের খাতার পাতার একটা ছবি পাঠান। হেড অফিস ছটা হাতের লেখা পড়ে, মোট অঙ্কগুলো একটা শিটে টাইপ করে, আর তৃতীয় দিনে গিয়ে দেখে একটা শাখার ছবি ভুল পাতার ছিল। উৎসবের সন্ধ্যায় কোন শাখা সবচেয়ে বেশি বেচেছে, কেউ বলতে পারে না। শিট ভরে ওঠার সময় উৎসবের সন্ধ্যা এক সপ্তাহ পুরনো। হেড অফিস যে সন্ধ্যাটা সবচেয়ে আগে পড়তে চায়, সেটাই সে পড়ে সবার শেষে।
ছোট শহরে ঢুকছে যে জুতোর চেন
Retail4Growth জানিয়েছে, বাটা ইন্ডিয়া ২০১৯ সালে বলেছিল তাদের ১৫০টা ফ্র্যাঞ্চাইজি স্টোর আছে আর পাঁচ বছরে ছোট শহরে প্রায় ৫০০টা খোলার পরিকল্পনা। জুতোর ব্র্যান্ডের ছোট শহরের শাখাতেও বড় শাখার মতোই সব সাইজ থাকে, কিন্তু প্রতিটার জোড়া কম। কোন শাখায় সাত নম্বর ফুরিয়েছে, হেড অফিস তা জানে না, যতক্ষণ না কোনো খদ্দের অভিযোগ লিখে পাঠায়।
দুই ইউনিট আর একজোড়া চোখের ফ্র্যাঞ্চাইজি-মালিক
Entrepreneur India জানিয়েছে, ২০১৯ পর্যন্ত দু'বছরে ভারতে একাধিক ইউনিটের ফ্র্যাঞ্চাইজি ৩৬%-এরও বেশি বেড়েছে, আর এখন এক ফ্র্যাঞ্চাইজি-মালিকের হাতে একই ব্র্যান্ডের দুটো ইউনিট, কাছাকাছি দুই শহরে একটা করে। সকালে তিনি এক ইউনিটে, বিকেলে অন্যটায়, আর যতবার পৌঁছন, কর্মচারীদের জিজ্ঞেস করতে হয় তিনি না থাকার সময় কী হয়েছে। সন্ধ্যায় দুই ইউনিটের হিসাব তিনি একটা বিলের পিঠে কষেন।


মিষ্টির ব্র্যান্ড, জুতোর চেন আর দুই ইউনিটের মালিকের শাখার পাশে যা থাকে
শাখা আর ফ্র্যাঞ্চাইজি
ছজন শাখা ম্যানেজার খাতার ছবি তোলা বন্ধ করেন, আর হেড অফিস রাত ন'টায় এক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিটা শাখার স্টক আর বিক্রি পড়ে।
অনেক দোকান, এক মালিক
গত সপ্তাহে খোলা ছোট শহরের শাখা যেদিন খোলে সেদিনই অ্যাকাউন্টে আরও একটা জায়গা হয়ে যায়।
রোজের রিপোর্ট
প্রতিটা শাখার দিন তার নিজের আগের দিনগুলোর পাশে, যাতে ছোট শহরের শাখাকে বিচার করা হয় তার নিজের গতিতে।
কম স্টকের সতর্কতা
কোন শাখায় সাত নম্বরের শেষ জোড়া রয়ে গেছে, ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করার আগেই দেখে নিন।
গুদামের স্টক
ব্র্যান্ডের নিজের গুদামেরও প্রতিটা শাখার মতো একটা গোনা আছে, তাই কী পাঠানো হল আর কী পড়ে রইল, দুটোই লেখা থাকে।

শাখা ম্যানেজারের পাতা, পড়া হচ্ছে হেড অফিসে
রাত ন'টার মধ্যে ছটা শাখা হেড অফিসের পকেটে
ম্যানেজাররা অন্য মানুষ, তাদের নিজেদের বিল। ব্র্যান্ডকে ছবি চাইতে হয় না, মাসিক সফরের জন্যও অপেক্ষা করতে হয় না। সে নিজের একটা অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিটা শাখার দিন পড়ে, আর যে বৃষ্টির মঙ্গলবারে কিছুই বিক্রি হয়নি তার পরের সকালেই সেই ম্যানেজারকে কেন জিজ্ঞেস করতে পারে।
অভিযোগ আসার আগেই শাখা ধরে ধরে সাইজ দেখা
হেড অফিস প্রতিটা শাখার স্টক খোলে আর দেখে কোথায় সাত নম্বর শুধু এক জোড়ায় ঠেকেছে। দেখে কোন শাখায় অনেক আছে। খদ্দের লিখে জানানোর আগেই জানে কাকে ফোন করতে হবে। ছোট শহরের শাখা আর সবার শেষে খবর দেওয়ার লোক থাকে না। কোন শাখায় কোন সাইজ বেশি আর কোথায় কম, প্রতিটা শাখার গোনাই হেড অফিসের সামনে থাকে, তাই কাকে ফোন করতে হবে সে নিজেই বুঝে নেয়।
মালিক যে ইউনিটে নেই, তার খবর পড়ে ফেলেন
যে ইউনিটে দাঁড়িয়ে আছেন সেখান থেকেই ফ্র্যাঞ্চাইজি-মালিক অন্য ইউনিটের দিনের বিক্রি খোলেন। বিকেলে সেখানে পৌঁছনোর আগেই তিনি জানেন সকালটা কেমন গেছে। কর্মচারীদের জিজ্ঞেস করতে হয় শুধু সেই একটা জিনিস যা ঠিক মনে হচ্ছে না, সবকিছু নয়।
যে ব্র্যান্ডের শাখা চালান অন্য লোক, তার মালিকের প্রশ্ন
আমার শাখা ম্যানেজাররা অ্যাপ জানেন না। বিল বানাবে কে?
প্রতিটা শাখা নিজের কাউন্টারে অন্য যে কোনো দোকানের মতোই বিল বানায়। হেড অফিস একটা অ্যাকাউন্ট থেকে স্টক আর বিক্রি পড়ে, বিল বানাতে হয় না।
আমার খুড়তুতো ভাই আমার ব্র্যান্ডের নামে একটা শাখা চালায়। সে কী দেখে, আর আমি কী দেখি?
অ্যাকাউন্টটা আপনার, আর তার শাখা তাতে আর সব শাখার মতোই আছে। শাখার স্টক আর বিক্রি আপনি নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে খোলেন। তার নিজের কাজ তার কাউন্টারের বিল।
প্রতিটা শাখা আমাকে কত ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি দেবে, সেটা কি হিসাব করে দেয়?
না। প্রতিটা শাখার স্টক আর বিক্রি দেখায়। ফি হিসাব হয় আপনার চুক্তি যেমন বলে তেমন, আর বিক্রির অঙ্কই তার ভিত্তি।
একজন ফ্র্যাঞ্চাইজি আমার ব্র্যান্ড ছেড়ে চলে গেল। তার শাখার রেকর্ড আমার অ্যাকাউন্টে কী দেখাবে?
সে যেদিন ছাড়ল সেদিন পর্যন্ত বানানো বিলগুলো আপনার অ্যাকাউন্টে যেমন বানানো হয়েছিল তেমনই থাকে, তারিখ সহ। সে চলে গেছে বলে তাতে কিছু বদলায় না, আর সেই শাখার স্টক আর বিক্রি তখনও পড়া যায়।
শাখা খোলার সপ্তাহেই কি তাকে অ্যাকাউন্টে যোগ করা যায়?
হ্যাঁ। শাখাটা যেদিন খুলছে, সেদিনই অ্যাকাউন্টে যোগ করুন, আর তার বিল সেদিন থেকেই শুরু হবে। পুরনো শাখাগুলো যেমন চলছিল, তেমনই চলতে থাকে।
একটা শাখা কাল একটাও বিল করেনি। দোকান বন্ধ ছিল, নাকি কিছু গোলমাল হয়েছে, বুঝব কীভাবে?
দিনটা শুধু দেখায় কোনো বিল নেই, কেন নেই তা বলে না। ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করুন, আর সেই শাখার আগের দিনগুলো পাশে খুলে পড়ুন। যে শাখায় বিল না হওয়া শান্ত দিন সাধারণত কমই আসে, সেখানে একটাও বিল না থাকা দিনটাই জিজ্ঞেস করার মতো।
দেশে ফ্র্যাঞ্চাইজি, ২০১৯ সালের দুটো রিপোর্টে
Entrepreneur India ২০১৯ সালে লিখেছিল, ভারতে ৪,৬০০-র বেশি সক্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজার আর প্রায় ১.৭ লক্ষ ফ্র্যাঞ্চাইজি-মালিকের চালানো প্রায় ২,০০,০০০ ফ্র্যাঞ্চাইজি আউটলেট আছে। ওই প্রতিটা আউটলেট এমন এক কাউন্টার যাকে কাউকে দূর থেকে পড়তে হয়। ছোট শহরে ছটা শাখার ব্র্যান্ড তাদের পাশে ছোটই।
Entrepreneur India ২০১৯ সালে লিখেছিল, ভারতে প্রতি বছর ১,০০০-এর বেশি নতুন রিটেল ব্র্যান্ড ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যায়। প্রথম তিনটে শাখার ব্র্যান্ডের ঝামেলা তিনশো শাখার ব্র্যান্ডের মতোই, শুধু ছোট।