ওষুধের দোকানের বিল আর স্টক, আপনার ফোনেই
শত শত ওষুধ, জ্বরের মরশুম আর যিনি প্রতি মাসে আসেন সেই খদ্দের, সব এক জায়গায়।

তাক, জ্বরের মরশুম আর যিনি প্রতি মাসে আসেন সেই খদ্দের
নিয়মিত খদ্দেররা যে ওষুধ নেন, সেগুলো গোনা হয় সবার আগে
যে খদ্দের প্রতি মাসে একই প্রেসার বা সুগারের ওষুধ কেনেন, দোকান তাঁকেই হারাতে চায় সবচেয়ে কম। ওই কয়েকটা ওষুধ নিজের নিজের স্টক সহ আলাদা জিনিস করে রাখুন, তাহলে তিনি আসার অনেক আগেই এক নজরে দেখবেন একটা কমে এসেছে। এটাই খদ্দেরের চুপচাপ ভরসা: এমন তাক যা তাঁকে কখনও ফেরায় না।
নিয়মিত খদ্দেরের পাতায় যা আছে, সস্তা তাকে তা নেই
সস্তা দামের তাক একটা দামের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে, কিন্তু আপনার কাউন্টারে এমন জিনিস আছে যা নতুন তাকের নেই: প্রতিটি নিয়মিত খদ্দের মাসে মাসে কী নিয়েছেন। প্রতিটি নিয়মিত খদ্দেরের জন্য একটা পাতা রাখুন, প্রতিটা মাস তারিখ সহ, তাহলে তিনি এলে কাউন্টারেই বলতে পারবেন গতবার কী নিয়েছিলেন, আর যারা ফিরে আসে তাদের জন্য আপনার ঠিক করা ছাড় তাঁর বিলে ওঠে।
মাসের স্ট্রিপ বিক্রি হয় একটা একটা করে, সাপ্লায়ারের প্যাক অর্ডার হয় আস্ত
যিনি নিয়মিত আসেন তিনি প্রেসারের ট্যাবলেটের একটা স্ট্রিপ নেন মাসে, কিন্তু সাপ্লায়ার পাঠায় প্যাকে। তিনি সাপ্লায়ারের জন্য অপেক্ষা করেন না, তাই শেষ প্যাকটা যেন কখনও তাঁর আসার আগে ফুরিয়ে না যায়। স্ট্রিপের গোনা দেখায় প্যাকটা আর কত মাসের আসা চালাতে পারবে, আর দুই মাসের আসায় নেমে এলে পরের প্যাকের অর্ডার চলে যায়।

স্ট্রিপ, শিশি আর মাসকাবারি খদ্দেরের কাউন্টারের কাজের সরঞ্জাম
কম স্টকের সতর্কতা
জ্বরের মরশুমে যে ওষুধ তাড়াতাড়ি যায়, ফুরোনোর আগেই তার সতর্কবার্তা। বার্তা আসে ফোনে, কাউন্টারে দাঁড়ানো খদ্দেরের মুখ থেকে নয়।
সরবরাহকারীকে অর্ডার
জ্বরের সপ্তাহে অর্ডার করা ওষুধের কোনগুলো এল তা লিখে রাখুন, যাতে সেদিনই জানেন যা চেয়েছিলেন তা তাকে আছে কি না।
নিয়মিত খদ্দেরদের জন্য অফার
যে খদ্দের প্রতি মাসে প্রেসার আর সুগারের স্ট্রিপ নেন, তাঁর জন্য আপনার নিজের ঠিক করা একটা ছাড়, যা তাঁর বিলে বসে। কাছের কম দামের ফার্মেসির সঙ্গে দামের লড়াইয়ে না নেমেও ফিরে আসার কারণটা দোকানের নিজের হাতে থাকে।

ওষুধের দোকানের কাউন্টারে গোনা যেখানে ভুল হয়
যিনি এসেছেন, যিনি মাসের পর মাস আসেন, আর পাশের ক্লিনিক, সবাই একই কাউন্টারে
যাঁর আজ জ্বরের একটা ট্যাবলেট চাই, যিনি প্রতি মাসে একই ওষুধ কেনেন, আর পাশের ক্লিনিক যা সিরাপ আর স্ট্রিপের স্টক নেয়, এঁরা তিন রকম খদ্দের। একটা কাউন্টার তিনজনকেই সামলায় একটা খাতায়, আর কে কী পায় আর কার কত বাকি, মালিক তা মাথায় রাখেন।
যে দিনগুলোয় সারা শহরে জ্বর
চেন্নাইয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর রোগী আগস্টের ৬০৫ থেকে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে ১,২৯০ হয়েছে, উত্তর-পূর্ব বর্ষার আগে যা প্রতি বছরের মরশুমি বাড়। ঠিক সেই সপ্তাহগুলোতেই মালিকের নিজের কর্মীরাও জ্বরে শুয়ে থাকে। কাউন্টারে যিনি একা থাকেন তিনিই পুরো লাইন সামলান, কিছু গুনে দেখার এক মিনিটও তাঁর নেই, আর সাপ্লায়ারের দোকানে পাঠানোর মতো কেউ নেই।
কয়েকটা দোকান পরে সস্তা ওষুধের ফার্মেসি
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তামিলনাড়ু মুদলভর মরুন্ধগম প্রকল্পে ১,০০০টা কম দামের ফার্মেসি চালু করেছে। এমন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি ওষুধের দোকানের প্রতিটি টাকার লাভ জরুরি। যে ওষুধ মাসের পর মাস তাকে অবিক্রিত পড়ে থাকে, তা আটকে থাকা টাকা। কী বিক্রি হয় আর কী হয় না, যে দোকান তা জানে, সেই দোকানই নিজের জায়গায় দাঁড়াতে পারে। দাম মেলানো খদ্দের অন্য দোকানের বাইরের বোর্ডেও দেখেন কী সাশ্রয় হতে পারত। যে দোকান জানে তার নিজের নিয়মিত খদ্দেররা কোন ওষুধ নেন, সে জায়গা ধরে রাখতে পারে।
ওষুধের দোকানের মালিকেরা যা জিজ্ঞেস করেন
ওষুধের দোকানের নিয়ম ক্রমশ কড়া হচ্ছে। এতে এই অ্যাপ কীভাবে কাজে লাগবে?
গুজরাটের ড্রাগ কন্ট্রোল কমিশনার বলেছেন, রাতে খোলা ওষুধের দোকানে যোগ্যতাসম্পন্ন ফার্মাসিস্ট লাগে, আর ২৪ ঘণ্টার কেমিস্ট কমপক্ষে তিনজন রাখা উচিত। এমন নিয়ম যখন দেখা হয়, প্রতিটি বিক্রির তারিখ দেওয়া বিল থাকলে উত্তর দেওয়া সহজ হয়।
পাশের ক্লিনিক একই ওষুধ দুই কোম্পানির নেয়। বিলে দুটো আলাদা করে বোঝা যাবে?
হ্যাঁ। ওষুধটার প্রতিটি কোম্পানির স্ট্রিপের জন্য আলাদা জিনিস বানান, আর নামে পাওয়ারটা লিখে দিন। ক্লিনিক তার বিল লাইন ধরে ধরে দেখে, আর মাসের শেষে আপনি দেখেন ক্লিনিক কোন কোম্পানির স্ট্রিপ ব্যবহার করে।
রাতে প্রতিটি তাক গুনতে ঘণ্টা কেটে যায়। এটা কমানো যায়?
হ্যাঁ। ফোনের স্টককে ভিত্তি ধরুন, আর যে সময় বাঁচল তা লাগান যা শুধু ওষুধের দোকানকেই করতে হয় তাতে: ধীরে চলা স্ট্রিপের গায়ে ছাপা তারিখ পড়ে দেখুন, কারণ ফোন গোনা রাখে, তারিখ রাখে না।
একটা সিরাপ ছোট আর বড় বোতলে আসে। দুটো জিনিস করব?
হ্যাঁ। বোতলের প্রতিটা মাপ নিজের দাম আর নিজের স্টক সহ আলাদা জিনিস। বিলে সেই মাপটাই ওঠে যেটা বিক্রি হল, আর দেখা যায় পাড়া কোন মাপ বেশি নেয়।
আমার দোকানের একটা ওষুধ দুই নামে চাওয়া হয়, কোম্পানির নামে আর সাধারণ নামে। দুটো নামই কি একই জিনিসে নিয়ে যেতে পারে?
খদ্দেররা যে নামে বলেন সেই নামে জিনিসটা যোগ করুন, আর অন্য নামটা জিনিসের বিবরণে লিখে দিন। সহকারী দুই নামেই খুঁজে পায়, আর স্টকের গোনা একটাই থাকে।
সারা ভারতের ওষুধের দোকান
কেরালায় প্রায় ২৯,০০০ অনুমোদিত ওষুধের দোকান আছে, যার ১৮,০০০ বেসরকারি; বাকিগুলো চেন আর জন ঔষধি ও সেবনার মতো সরকারি বা সমবায় দোকান।
অল কেরালা কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, কারবার ছোট হয়ে আসায় প্রতি জেলায় প্রতি বছর ৮০ থেকে ১০০টা ওষুধের দোকান বন্ধ হয়ে যায়।
কর্ণাটকের রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী রাজ্যে ৩৭,১৩০টারও বেশি বেসরকারি ফার্মেসি আছে, আর ২০২৩-২৪ সালে ২৯২টা ফার্মেসির লাইসেন্স বাতিল হয়েছে।
হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালার এক লোকসভা সাংসদ বলেছেন, জন ঔষধি কেন্দ্রে ২,০০০-এর বেশি ওষুধ আর ৩০০টা অস্ত্রোপচারের জিনিস ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ কম দামে মেলে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী লোকসভায় জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিহারে ১,০৫৮টা জন ঔষধি কেন্দ্র ছিল, সরকারি জেনেরিক ওষুধের দোকান।
পশ্চিমবঙ্গ ২০১২ সালে সরকারি হাসপাতালে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান শুরু করে; ২০১৪ সালের মধ্যে ৯৪টা চালু ছিল, ৪৪২টা দরকারি ওষুধে এমআরপি-র থেকে ৪৮ থেকে ৭৭ শতাংশ ছাড় দিয়ে।
রাজস্থান ২০২৬ সালের ২০ মে কেমিস্টদের ধর্মঘটের সময় ৫৩৮টা সমবায় ওষুধের দোকান, জন ঔষধি কেন্দ্র সহ, সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল; সেখানে প্রায় ২,০০০ ওষুধ মেলে।